Published : 03 May 2026, 07:06 PM
কয়েক মাসের স্থবিরতার পর দেশের রপ্তানি খাতে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০১ কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সদ্যপ্রকাশিত তথ্য এই চিত্রটি তুলে ধরেছে। তবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) হিসেবে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি এখনও আগের বছরের তুলনায় পিছিয়ে আছে। এই সময়ে ৩ হাজার ৯৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ কম। ইপিবি-র তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস থেকেই রপ্তানি কিছুটা চাপে ছিল। তাই এপ্রিল মাসের এই প্রবৃদ্ধি একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান রপ্তানিকারক পোশাক শিল্প থেকে জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৩ হাজার ১৭২ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২.৮২ শতাংশ কম। তবে এপ্রিল মাসে এই খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা গেছে। মাসটিতে ৩১৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩১.২১ শতাংশ বেশি। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দশ মাসে এই খাতে ৯৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৯৫ শতাংশ বেশি। শুধু এপ্রিল মাসেই এই খাতে রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ডলার, যা ৩৫.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে কিছুটা দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে।
জুলাই-এপ্রিল সময়ে এই খাতে ৮২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪.৬৯ শতাংশ কম। তবে এপ্রিল মাসে এই খাতে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের রপ্তানি হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে পণ্য উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই বিষয়গুলো পণ্য রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এপ্রিল মাসে যে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তা আগামী কয়েক মাসের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।।